বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি নায়িকা শবনম দীর্ঘ ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে নতুন কোনো সিনেমায় অভিনয় করছেন না। এক সময় যিনি রুপালি পর্দা কাঁপিয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় ও ব্যবসাসফল সিনেমা দিয়ে, সেই শবনমকে শেষবার বড় পর্দায় দেখা গিয়েছিল ১৯৯৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আলোচিত চলচ্চিত্র ‘আম্মাজান’-এ। এরপর আর কোনো নতুন সিনেমায় অভিনয়ে দেখা যায়নি এই প্রখ্যাত অভিনেত্রীকে।
তবে দীর্ঘ এই সময়ে তাঁর কাছে অভিনয়ের প্রস্তাব আসেনি—এমনটি নয়। ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, নিয়মিতই বিভিন্ন নির্মাতা ও প্রযোজকের পক্ষ থেকে সিনেমার প্রস্তাব পেয়েছেন শবনম। কিন্তু গল্প ও চরিত্রে মৌলিকত্বের অভাব দেখেই তিনি সেসব প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন।
শবনমের ঘনিষ্ঠজনরা জানান, তিনি সবসময় বিশ্বাস করতেন—অভিনয় শুধু উপস্থিতির জন্য নয়, বরং চরিত্রের গভীরতা ও গল্পের শক্তিই একজন অভিনেতাকে পর্দায় টানে। একই ধাঁচের গল্প, পুনরাবৃত্ত চরিত্র কিংবা শিল্পমানহীন চিত্রনাট্য তাঁকে আর আকৃষ্ট করতে পারেনি। ফলে নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সম্মান বজায় রাখতেই অভিনয় থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন তিনি।
বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে শবনম এক অনন্য অধ্যায়ের নাম। ষাট ও সত্তরের দশক থেকে শুরু করে আশির দশক পর্যন্ত অসংখ্য কালজয়ী সিনেমায় অভিনয় করে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সর্বকালের সেরা নায়িকাদের একজন হিসেবে। বিশেষ করে ‘আম্মাজান’ সিনেমায় তাঁর আবেগঘন অভিনয় আজও দর্শকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল।
চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের মতে, শবনমের অনুপস্থিতি দেশের সিনেমার জন্য এক বড় শূন্যতা। অনেকেই মনে করেন, শক্তিশালী গল্প ও যথার্থ চরিত্র পেলে আজও পর্দায় অনন্য হয়ে উঠতে পারেন এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী।
সব মিলিয়ে, অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও শবনম আজও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নাম। মৌলিকতা ও শিল্পমানের প্রশ্নে আপসহীন এই কিংবদন্তির প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় এখনো প্রজন্মের পর প্রজন্ম।

0 Comments